ধর্মকে পুঁজি করে মবসন্ত্রাস করলে প্রতিহত করবে ছাত্রদল: রাকিব
বিশেষ প্রতিনিধি
ক্রাইম ডেক্স
ধর্মকে পুঁজি করে যারা দেশে মবসন্ত্রাস উসকে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কঠোর অবস্থান নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশব্যাপী মবসন্ত্রাসের বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাস্তবতায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ধর্মকে পুঁজি করে ‘বট বাহিনী’ তৈরি করছে এবং নিয়মিতভাবে মবসন্ত্রাসে ইন্ধন দিচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় দেশের বাইরে বসে অনলাইনে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদলও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তাই ছাত্রদল কখনো নিজের হাতে মব সংস্কৃতি প্রতিহত করেনি। আমরা যদি তাদের মতো আচরণ করতাম, তাহলে বহু ক্যাম্পাসেই কেউ টিকে থাকতে পারত না। ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমেই আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কে ভালো মুসলিম আর কে নয়—এই বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ভয়ংকর। এ ধরনের রাজনীতি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর নিয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছড়ানো গুজবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাকিব বলেন, এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হাদি হত্যাকাণ্ডসহ সব মবসন্ত্রাসের ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, সারাদেশে মব সংস্কৃতির নামে যে অরাজকতা চলছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে টিএসসি এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রদলের অঙ্গীকার, নিরাপদ বাংলাদেশ’, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ, আমাদের অঙ্গীকার’, ‘মবসন্ত্রাসের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আয়েশাকে পুড়িয়ে মারে, প্রশাসন কী করে’, ‘দীপুকে পুড়িয়ে মারে, প্রশাসন কী করে’—এমন নানা স্লোগান দেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা এবং লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তার সাত বছরের কন্যা আয়েশা সানজুকে হত্যার প্রতিবাদ ও দেশব্যাপী মবসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।