সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত বিআরটিএ, ঘুস দেওয়ার শীর্ষে নোয়াখালী

Published on: 06 Jun 2026, 03:45 AM
সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত বিআরটিএ, ঘুস দেওয়ার শীর্ষে নোয়াখালী

বিশেষ প্রতিনিধি

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর সরকারি সেবা নিতে ঘুস দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালী জেলা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)–২০১৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এ জরিপের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জরিপে দেখা যায়, গত এক বছরে সরকারি সেবা গ্রহণকারী নাগরিকদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঘুস ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষের হার ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ঘুস দেওয়ার প্রবণতায় জেলা ভিত্তিক হিসেবে নোয়াখালী শীর্ষে, যেখানে প্রায় ৫১ শতাংশ মানুষ সেবা পেতে ঘুস দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঘুস-দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি—

বিআরটিএ: ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা: ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ

পাসপোর্ট অফিস: ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ

ঘুস হিসেবে কী দেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নগদ অর্থ দিয়েছেন।
জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য—এসব বিষয়ে এসডিজি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।

জাতীয়ভাবে জরিপে অন্তর্ভুক্ত খানাগুলোতে গড়ে সদস্য সংখ্যা ছিল ৪ জন। এর মধ্যে ৮১ দশমিক ৯৭ শতাংশ পুরুষপ্রধান পরিবার এবং ১৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নারীপ্রধান পরিবার।

নিরাপত্তাবোধের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশের ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশে একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের নিরাপত্তাবোধ কম—পুরুষদের ক্ষেত্রে ৮৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার আরও বেশি, যা ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

সুশাসন প্রসঙ্গে জরিপে উঠে এসেছে, মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন তারা সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাবের ক্ষেত্রে এই হার আরও কমে ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাতীয়ভাবে প্রায় ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়াপ্রবণ। এ ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মানুষের মতামতে তেমন পার্থক্য নেই।

গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের চিত্র অনুযায়ী—

৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন

৪০ দশমিক ৯৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের অন্তত একটি সন্তান সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে

৭৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ মানুষ পরিচয়পত্র বা নাগরিক নিবন্ধনের মতো অন্যান্য সরকারি সেবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন

সেবা গ্রহণকারীদের সন্তুষ্টির হার অনুযায়ী

স্বাস্থ্যসেবা: ৭২ দশমিক ৬৯ শতাংশ

প্রাথমিক শিক্ষা: ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ

মাধ্যমিক শিক্ষা: ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ

অন্যান্য সরকারি সেবা (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন): ৬৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।