পদত্যাগের পর থেকে চুপ থাকতে বলা হচ্ছে: তাসনূভা জাবিন
সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনূভা জাবিন বলেছেন, পদত্যাগের পর থেকে তাকে বিএনপি–জামায়াতের কারও সমালোচনা না করে নীরব থাকতে বলা হচ্ছে। তবে আল্লাহ ছাড়া কেউ তাকে থামাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে একটি টেলিভিশন টকশোর ভিডিও শেয়ার করে দেওয়া ক্যাপশনে এসব কথা লেখেন তাসনূভা জাবিন।
ভিডিও শেয়ারের পর দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকা–১০ আসনে এবি পার্টির নাসরিন সুলতানা মিলির প্রচারণা তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে লক্ষ্য করছেন। পোস্টারে ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন এবং জানতে পারেন তিনি মনোনয়নও নিয়েছেন। তবে তার অভিযোগ, দলটিতে সবসময়ই দুইজন পুরুষ নেতার আধিপত্য দেখা যায়।
নারী নেতৃত্ব সামনে না আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একজন জনপ্রিয় নারী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জোটের প্রয়োজন কেন হচ্ছে? তার মতে, একজন নারী প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে দলটি আরও বিস্তৃত হতে পারত।
বিএনপির দুঃসময়ে রুমিন ফারহানা, নিলুফার মনি, মাহমুদা হাবিবা ও পাপিয়া আপাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাসনূভা জাবিন বলেন, কঠিন সময়ে নারীরাই দলের কণ্ঠস্বর ছিলেন। অথচ ভালো সময়ে নেতৃত্ব পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পরও কেন বড় রাজনৈতিক দলে তারা যথাযথ জায়গা পাচ্ছেন না। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের পুত্র–কন্যারা সুযোগ পেলে তখন এসব প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টেলিভিশন টকশোতে জোরালো বক্তব্য এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে নারীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কথায় শতভাগ সক্রিয়তা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ভোট দেওয়ার আগে জনগণের মনে রাখা উচিত—গণঅভ্যুত্থানে নারীরা দেশের জন্য কী ভূমিকা রেখেছেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও রাজনীতি তাদের কী প্রতিদান দিচ্ছে। নারী প্রশ্নে সর্বদলীয় ঐক্যের বর্তমান অবস্থান নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।