বছরে দুই দফায় টানা ১৫ দিনের ছুটির দাবি সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরে টানা ১৫ দিনের দুইটি ছুটি শিক্ষাপঞ্জিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি, এই ছুটি নিশ্চিত না হলে শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেতে জটিলতার মুখে পড়বেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেওয়া এক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২টি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই আবেদন করে।
আবেদনে বলা হয়, শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেতে হলে একসাথে টানা ১৫ দিনের ছুটি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বর্তমানে রমজান মাস ছাড়া শিক্ষাবর্ষে আর কোনো ১৫ দিনের টানা ছুটি না থাকায় শিক্ষকরা প্রতি তিন বছর অন্তর এই ভাতা পাচ্ছেন না।
সংগঠনটির ব্যাখ্যায় বলা হয়, রমজান মাস প্রতি বছর প্রায় ১০ দিন করে এগিয়ে আসে। ফলে তিন বছরে প্রায় ৩০ দিন ব্যবধান তৈরি হয়। এতে তিন বছর পূর্ণ হলেও রমজান মাসে শিক্ষকরা টানা ১৫ দিনের ছুটি পান না এবং বাধ্য হয়ে চতুর্থ বছরে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নিতে হয়। বছরে যদি দুইটি ১৫ দিনের ছুটি রাখা হয়, তাহলে শিক্ষকরা নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর ভাতা পেতে সক্ষম হবেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি সামগ্রিকভাবে যুগোপযোগী হলেও কিছু সংশোধন করলে শিক্ষকদের জন্য তা অধিক উপকারী হবে বলে মনে করেন তারা।
সংগঠনটির অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবারকে অনেক ক্ষেত্রে ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হলেও বর্তমান তালিকায় এ ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকের ছুটিতে শুক্র ও শনিবার শূন্য দিন হিসেবে গণনা করা হলেও ৮ নম্বর ক্রমিকের (৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ) ছুটিতে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার ছুটির দিন হিসেবে ধরা হয়েছে। একইভাবে ২৮ নম্বর ক্রমিকের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনের ছুটিতেও শুক্র ও শনিবার গণনা করা হয়েছে।
এতে মোট ৬ দিন (৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন এবং ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিন) শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠন ঐক্য পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ নম্বর ক্রমিকের শুক্র ও শনিবার হিসেবে গণনা করা দিনগুলো ২৮ নম্বর ক্রমিকের সঙ্গে যুক্ত করে ছুটির তালিকা সংশোধন করা হলে মোট ছুটির পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখেই ১৫ দিনের টানা ছুটি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তিও সহজ হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ নম্বর ক্রমিকের ছুটি ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে শুক্র ও শনিবার বাদ দিয়ে ১১ দিন ছুটি গণনা করলে বছরে মোট ছুটি দাঁড়াবে ৬১ দিন। তবে শিক্ষকদের তিন বছর পরপর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ২৮ নম্বর ক্রমিকের ছুটি কমপক্ষে ১৫ দিন রাখা একান্ত প্রয়োজন।
এই আবেদনে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান সংগঠন ঐক্য পরিষদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।