শিশু ধর্ষণকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম: বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত অনেকে
By Rasel Das |
২২ মে, ২০২৬ |
103 views
ADVERTISEMENT
728 x 90
সঞ্জয় দত্ত
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি :-
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গোডাউন কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই মোবারক হোসেন, এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই মোশারফ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
গ্রেপ্তার মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকার আলী স্টোর বিল্ডিংয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী কয়েকটি পিকআপ ভ্যানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত পুলিশ সদস্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভও করেন অনেকে।
বাকলিয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
ADVERTISEMENT
Responsive