মশিউর রহমান নয়ন
বিশেষ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযানে অংশ নেওয়া ক্যাম্প কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
ঘটনার পর জেলা বিএনপি অভিযোগ করে, আটকের পর অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণেই শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে—জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে ওই বিএনপি নেতা মারা যান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা যায়, সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামসুজ্জামান ডাবলুকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে। পরে রাতেই তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।
আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৫০) কে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ফার্মেসি থেকে একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের পর আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, অস্ত্র উদ্ধারের নামে শামসুজ্জামান ডাবলুকে ধরে নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্য অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে, যার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, নিহতের পরিবার যেখানে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে, সেখানে সেনাবাহিনী বলছে ভয়ে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
আইএসপিআর জানিয়েছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু: ক্যাম্প কমান্ডারসহ সেনা সদস্য প্রত্যাহার, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি
By Rasel Das |
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ |
299 views
ADVERTISEMENT
728 x 90
ADVERTISEMENT
Responsive